গুটলুর গল্প
নকশা কাটা একটি মুখ
গুটলুকে প্রথম দেখলেই থমকে যেতে হয়। কপালের মাঝখানে কালো একটা ছোপ, যেন কেউ তুলি দিয়ে এঁকে দিয়েছে। নাকের ওপর ধবধবে সাদা দাগ, আর গালের দুপাশে সোনালি রঙের ছোঁয়া। সবচেয়ে বেশি টানে তার চোখ, গভীর, শান্ত, একটু যেন কিছু বলতে চায়।
আরাম তার ধর্ম
গুটলুর দিন শুরু হয় আরাম দিয়ে, শেষও হয় আরাম দিয়ে। কখনো কাপড়ের স্তূপে থুতনি রেখে আধবোজা চোখে দুনিয়াটা দেখে, কখনো ফুল-ফুল চাদরে গা এলিয়ে দেয়। কারও সঙ্গে ঝামেলা নেই, চেঁচামেচি নেই। ডাকলে একবার তাকায়, তারপর আবার ঘুমের দেশে।
টুনার জন্য সবকিছু
ক্যাট ফুডের বাটি দেখলে গুটলু ভদ্রভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়। কিন্তু লিকুইড টুনা ট্রিটের প্যাকেট খোলার শব্দ পেলেই বড় বড় চোখ আরও বড় হয়ে যায়। তখন আর আরাম নয়, তখন একটাই লক্ষ্য: টুনা।
বারান্দার সকাল
সকালের নরম রোদে বারান্দার টুলটাই গুটলুর সিংহাসন। এখান থেকে সে নিচের গাছপালা, ছাদ আর খোলা আকাশ দেখে। মাঝে মাঝে গাছের ছায়ায় পাঁচিলের ওপর বসে এমন গম্ভীর মুখে তাকায়, যেন গোটা পাড়ার দায়িত্ব তারই।
এতগুলো ছবি পাশাপাশি রাখলে একটা জিনিস চোখে পড়ে: গুটলুর চোখ প্রতিটা ছবিতে আলাদা কথা বলে। কোথাও আধো ঘুমে ভারী, কোথাও কৌতূহলে গোল, কোথাও আবার একটু অভিমানী। সবুজ ব্যাগের ভেতর থেকে উঁকি দেওয়া মুখটা হয়তো সবচেয়ে মজার। এই বিড়ালটা বেশি কিছু করে না, শুধু থাকে, আর তাতেই ঘরটা ভরে যায়।